Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog

জামাই ষষ্ঠী - Rina Nag

Print

সেদিন মায়ের থেকে একটা রান্নার recipe নিতে গিয়ে মা মনে করাল, সামনের শুক্রবার “জামাই-ষষ্টি”! মাকে বললাম “হুহ, তো আমার কি?”। না আমি জামাই, না আমার বিবাহিত মেয়ে আছে, তার ওপরে আমি কলকাতাতেও নই যে, আমার বর দেবতাটির দউলাত এ আমার কপালেও ষোড়শোপচারে নানাবিধ আয়জন জুটবে! কি করব আমি জামাই-ষষ্টির গপ্পো শুনে!” মুখে বললেও, মনে মনে ব্যাপারটা কিন্তু বেশ দোলা দিলো! 

জামাই-ষষ্টির আয়জন এর কথা, খুব বেশি করে মামার বাড়ির কথা মনে করায়; আমার মামার বাড়ি এখনও যাকে বলে একান্নবর্তী পরিবার! তাই যেকোনো অনুষ্ঠানে, বাইরের লোকজন আর দরকার হয় না, তারা একাই একশোর সমান! ষষ্টির দিন, সকাল সকাল পৌঁছান হতো দক্ষিনেশ্বর আমার মামার বাড়িতে! এত লোকজনের মধ্যে, আমরা মামাত- মাসতুতো – পিসতুতো ভাইবোনেরা মিলে, বাড়িটাকে এক্কেবারে  পাগল এর কারখানা বানিয়ে তুলতাম! ষষ্টি ব্যাপারটা কিছুই বুঝতাম না, আমার কাছে সব থেকে বেশি আনন্দের বিষয় ছিলও সবাই একসাথে হওয়াটা!

বসার ঘরটা ফাঁকা করে সেখানেই ষষ্টির জল নেওয়ার আয়োজন হতো! বড় কাঁসার জল ভরা গামলাতে, ভেজানো থাকতো পাখা, দূর্বা ঘাসের গোছা আর, পাঁচ রকম এর ফল। এই দূর্বা ঘাসের গোছাটা, আমাদের কাছে একটা খুব মজার বাপার লাগতো! দূর্বা দিয়ে একটা ঝারন এর মত কিছু একটা বানানো হত, যার গোঁড়ায়ে থাকতো নানান রকম এর ফুল,কড়ি আর চালের পুঁটুলি! প্রথমে জামাইরা, তারপরে বাচ্চারা, সব শেষে মামারা বসতো ষষ্টির জল নিতে! দূর্বা ঘাসের ঝাড়ন জলে ডুবিয়ে, ছোঁয়ানো হতো মাথায়, ঘাড়ে, গালে! গরমকালে কি যে আরাম লাগত ব্যাপারটাতে কি বলব! তারপরে, জলে ডোবান পাখার বাতাস করতে করতে “ষাটের” বুলি আওরানো! সব শেষে, দূর্বা পুঁটুলির চাল আর গামলাতে ডোবানো ফল হাতে দিয়ে, ষষ্ঠীর নিয়মের ইতি!      

এর পরের পর্বটি জামাইদের অত্যন্ত প্রিয়! দুপুরের ভুরিভোজ! সাত রকম এর ভাজা, শুক্তো, মুগের ডাল, তিন রকমের মাছ, কচি পাঁঠার ঝোল, চাটনি,দই-মিষ্টি, আম কাঁটাল...... বাব্বাঃ লিখতে গিয়ে আমি হাপিয়ে যাচ্ছি! সাবেকি বড় বড় কাঁসার থালা-বাটিতে সাজানো হতো জামাইদের জন্য!দিদা, নিজে হাতে সব সাজাতেন! সকাল থেকে মা-মামিরা মিলে এতোসব রান্না করে নিজেরা কিন্তু নিরামিশ-ই খেত! মায়েদের নাকি সেদিন, তাই খেতে হয়! Sacrifice এর ঘনঘটা যাকে বলে আর কি! এই ভাবেই কাটতো সারাটা দিন! সন্ধ্যে বেলায়, নৌকা ভারা করে বেলুর! আনন্দে কেটে যেত, গরম কালের আরও একটা অন্য রকম দিন! মনে আছে, আমাদের এক আত্মীয়ওকে আনতে গিয়েছিলাম খারদাহ রেল-জাংশানে! সেদিন ট্রেনে ভীষণ করাকরি......প্রত্যেকে টিকেট দেখিয়ে তারপরে বেরোতে হচ্ছে! মজার কথা হল, সেদিন অদ্দেক জামাই টিকেট না কেটেই, শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন! আর যাবি কোথায়, শ্বশুরবাড়ির লোকের সামনে ওই গরমে, নতুন পাঞ্জাবীতে, মিষ্টির হাঁড়ি হাতে জামাইদের একেবারে গলদঘর্ম্য অবস্থা! কিছু কিছু মেয়েকে দেখলাম, টি টি র কাছে জামাইকে গচ্ছিত রেখে, বাপের বাড়ি দৌড়চ্ছে টাকা আনতে! হাসতে হাসতে অবস্থা কাহিল হয়েছিল সেবার!      

আমার শ্বশুর বাড়িতে ষষ্ঠী নেই! খালি উপহার দেওয়া ও নানান রকম এর রান্নাবান্না এর  চল আছে! আমিও করবো নানান রকম এর রান্না, তবু মাঝে মাঝে ভাবি ...। রান্না-বান্না, উপহার এগুলো বোধয় অনুষ্ঠানেরই একটা অঙ্গ মাত্র! নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন না হলে কোন অনুষ্ঠানই পরিপূর্ণ হয় না!একসাথে হওয়াটাই যেন অনুষ্ঠানের আনন্দ! এক এক সময় মনে হয়, আমরা কত লাকি, পারিবারিক যে আনন্দও, সেটা আমরা পুরো মাত্রায়  উপভোগ করেছি! একটা অন্যরকম টান অনুভব করতাম, এই পার্বণ গুলতে! এখন আরও  বেশি করি; এ সব এর থেকে দূরে আছি যে! আমাদের বারো মাসের, তেরোটা পার্বণ আর বেশি করে মনে করায়ে, ওটাই আমার দেশ, আমার শেকড়, আমার পরিচিতি, আমার ঘর...... আমার নিজের মানুষ! 

Add comment

Security code
Refresh

Sunday the 21st. Amar Pujo Toronto | Home | Joomla 3 Templates Joomlaskins