Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog

রোদন ভরা এ বসন্ত - by Rina Nag

Print

ঝিরি ঝিরি বরফ এর মধ্যে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিয়ে এসে, তাড়াতাড়ি এক কাপ গরম কফি বানিয়ে বসলাম। কোনদিনই আমি তেমন চা-কফির ভক্ত নই, কিন্তু এই বিচ্ছিরি ঠাণ্ডাতে, মাঝে মধ্যে পান করা চলে আর কি! কফির কাপটা হাতে নিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, কি অনামুখদের দেশ বাবা! এই নাকি বসন্তকাল এর নমুনা! তারপরেই মনে হয়, আআহা এখন কলকাতায় না জানি কি হই হই, হবে নাই বা কেন? দোল, তারপরেই পয়লা বৈশাক! আনন্দের ফোয়ারা চারদিককে! কেন যে মনের মধ্যে বারে বারে তুলনা গুলো চলে আসে! হবে না? দাঁত না থাকলেই ত তার মর্মও বোঝা যাবে, এ আর নতুন কি? Time machine উল্টো ঘুড়িয়ে চললাম আমি পুরনো দিনের গল্প করতে!  

এই সময়, কলকাতায় বাতাসে কেমন একটা গরম গরম ভাব! কলকাতায় আর সে ভাবে ঠাণ্ডা পরে কোথায়ে বল? একটা ঠাণ্ডা-গরম মেশানো হাওয়া বয়ে যায়ে, খুব সকালে আর বিকেল এর দিকে! আমাদের বাড়ির পেছনের দিকে গাছ গাছালির সংখ্যা নেহাত কম নয়; এবং ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য হলেও, এখনও খুব সকালে দারুন সুন্দর কোকিল এর ডাক শুনতে পাওয়া যায়ে! পাখিটাকে আজ অবধি দেখার সৌভাগ্য হয় নি, কিন্ত এখনও এই সময়  কলকাতায় থাকলে, খুব ভাল কোকিলের ডাক শুনতে পাই! আমার এক মামা থাকতেন শিউরিতে; সেই সুবাদে একবার মামার বাড়ি থেকে সবাই মিলে যাওয়া হয়েছিল শান্তিনিকেতনয়ে!

সেটা দোলের দিন ছিল না! আমি তখন বেশ ছোট ছিলাম, মনে আছে একটা খুব ভীর বাসে করে যাওয়া হয়েছিলো! কলকাতার বাসে, আমি কখনও বাসের মেঝেতে বসে লোকজনদের যেতে দেখিনি! এখানে দেখলাম, বাসে যে যেমন পারে বসে গেলেই হল! বাসের মাথায়ে দেখলাম হই হই করে উঠে পড়লো বেশ কিছু আদিবাসী স্থানীয় লোকজন! মাথায়ে ফুল, গলায়ে নানান পুথির মালা পরা আদিবাসী মহিলারা বড় বড় বেত এর ঝুড়ি উলটো করে পেতে, তার ওপরেই আরামে থিতু হোল! মা দেখলাম, একবার ভয় ভয় মামিকে জিজ্ঞাসা করলো বউদি,বাসটা উল্টে যাবে না তো? যাইহোক, কনডাক্তার একটা অদ্ভুত হাঁক ছাড়তেই, বাস চলা আরম্ভ হল। বোলপুর, শান্তিনিকেতন, কোপাই নদী সব দেখলাম; সব কিছুর মধ্যে যেটা তখন আমার পাওনা মনে হয়েছিল......শান্ত, সবুজে ঢাকা নিরব নিরীহ গ্রাম্য পরিবেশ! ২৫শে বৈশাক স্কুলের রবিন্দ্রাজায়ান্তিতে, নাচের গান গ্রাম ছারা ওই রাঙা মাটির পথের সন্ধান ও মিলেছিল এই শান্তিনিকেতনেই! রাস্তার দুই ধারে লাল পলাশ এর গাছ...... রাঙা মাটির দেশ বুঝি ওখান থেকেই রঙ্গ পেয়েছে তার! দুই বিনুনিতে মামি লাগিয়ে দিয়েছিল লাল পলাশ এর গোছা! সাঙ্গিত ভবন এ তখন চলছিল আসন্ন বসন্ত উৎসব এর নাচ- গান এর rehearsal। মাটির তৈরি চিতই পিঠে গড়ার সরা, নানান গ্রাম্য আল্পনা দেওয়া মাটির ছোট ছোট কলসি, মাটির খেলনা-গয়না সব কেনা হয়েছিল সেবার! এই সব এর মধ্যে, মামা কথা থেকে যেন সবার জন্য কাগজ এর ঠোঙ্গা করে নিয়ে এসেছিল, গরম গরম মুড়ি-বেগুনি-আলুরচপ! অনেক স্মৃতি ঠিক করে মনেও নেই এখন! কিছুই কিছু যা মনে পরল, তাই লিখলাম!     

দোল এর পরের দিন, আমার জন্মদিন!তাই আনন্দটাও দিগুন হতো! মনে আছে বাড়ির পিছনের বাগানে দাদা, গোপাল,সুমন দা, আমি, দিদি, ঝারনাদি, শ্যামা, সবাই মিলে তৈরি করতাম নেড়াপোড়ার আয়জন! মাটির দুটো নেড়া-নেড়ি ও বানান হতো! পাশের বাড়ির কাকিমা আমাদের ওই নেড়াপোড়ার মধ্যে বেশ বড় বড় দু তিনটে বেগুন চালান করে দিত! উদ্দেশঃ বেগুন পরা! নেড়াপোড়ার কারন জানা নেই, কিন্তু এর দউলাতে যে বেশ কিছু মশা মরত, এটা মনে আছে! দোলের আগেরদিন সন্ধ্যাবেলাতে বাপীকে দেখতাম বড় বড় বাক্স করে নিয়ে আসত দু রকম এর বাতাসা, নকুলদানা, ফুটকড়াই আর ছোট শুকনো সন্দেশ! তখন পাড়া থেকে অনেকে আসত বড়দের পায়ে আবির দিতে, আমরাও যেতাম! এখনো কি আছে বড়দের পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করার রেয়াজ?  বালতি করে রঙ গলা হতো, জল ভরা বেলুন, নানান ধরনের পিচকারী...কি না করেছি আমরা সেই সময়? ভূত এর মত চেহারা নিয়ে, জন্মদিন ও পালন হতো!             

সময়ে বদলে যায়ে, অনেক পুরন স্মৃতি মনকে আনন্দে ভরিয়ে রাখে! আমার জন্যও তাই! সেই দিনগুলোর জন্য মনখারাপ হয় না যে, তা নয়! তবু কেন জানিনা, সেই দিনগুলোর কথা মনে হল খুব ফ্রেশ লাগে! নতুন কিছু করার প্রেরণা পাই! সত্যি কথা বলতে কি, এখনো আনন্দ করি;  এখন এর মতন! বন্ধুরা মিলে আড্ডা, হইচই, আবির খেলা, ঠাণ্ডাই পান সব চলে আমাদের এখানেও! কলকাতার বন্ধুরা, সবাই দল বেঁধে যাবে আবার শান্তিনিকেতনে এবছর, আমি ওদের সাথে একসঙ্গে ঘোরার আনন্দ মিস করব!এবার শুনলাম, পলাশ ফুল পেড়ে যাতে গাছ আর পরিবেশ নষ্ট না হয়, তার দিকে করা পাহারা থাকবে শান্তিনিকেতনে!ঠিকই তো, অমন জিনিস  বাঁচিয়ে রাখতে গেলে, ছোটখাটো শাসন বাবস্থা নেওয়া উচিত! তবুও মন বলছে, বন্ধুরা পলাশ ফুল লাগিয়ে facebook এ আপডেট দেবেই! আমিও আনন্দ করব এখানের মতো, যতোটা করা যায়ে! খালি যেটা হবে না সেটা হল, কচি কচি গলায়ে শোনাঃ 

আজ আমাদের নেড়াপোড়া

কাল আমাদের দোল

পুন্নিমাতে চাঁদ উঠেছে

খোল দ্বার খোল।  

- রিনা নাগ 

Comments  

 
#4 Rina Nag 2013-04-17 10:50
Thank you! :D
Quote
 
 
#3 Nandita 2013-04-16 22:45
Darun likhechhis Rina..
Quote
 
 
#2 Nanda 2013-04-16 13:12
Tomaar lekhata khub bhalo hoyeche. I liked the part of
আদিবাসী স্থানীয় লোকজন! মাথায়ে ফুল, গলায়ে নানান পুথির মালা পরা আদিবাসী মহিলারা বড় বড় বেত এর ঝুড়ি উলটো করে পেতে, তার ওপরেই আরামে থিতু হোল! শান্ত, সবুজে ঢাকা নিরব নিরীহ গ্রাম্য পরিবেশ.রাস্তার দুই ধারে লাল পলাশ এর গাছ...... রাঙা মাটির দেশ বুঝি ওখান থেকেই রঙ্গ পেয়েছে তার! দুই বিনুনিতে মামি লাগিয়ে দিয়েছিল এর নাচ- গান এর rehearsal। মাটির তৈরি চিতই পিঠে গড়ার সরা, নানান গ্রাম্য আল্পনা দেওয়া মাটির ছোট ছোট কলসি, মাটির খেলনা-গয়না সব কেনা হয়েছিল সেবার! এই সব এর মধ্যে, মামা কথা থেকে যেন সবার জন্য কাগজ এর ঠোঙ্গা করে নিয়ে এসেছিল, গরম গরম মুড়ি-বেগুনি-আল ুরচপ!
it has reminded me Satyajit Roy er " Aranyer din ratri " movie.
Quote
 
 
#1 Arpita Saha 2013-04-15 08:46
khub bhalo . onek kichu mone koriye dilen Rina Madam . dhonnobad . tobe Fresh katha tar bangla protisobdo niye bhabchi . bhabna ta dewar jonye dhonnobad . ami apnar lekhar besh anuragi . sohoj , sochho , sorol .
Quote
 

Add comment

Security code
Refresh

Thursday the 18th. Amar Pujo Toronto | Home | Joomla 3 Templates Joomlaskins