Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog

পুজোর চিঠি - Rina Nag

Print

শ্রীচরণেষূ মা,

 কেমন আছ? অনেকদিন চিঠি লেখা হয়নি তোমায়ে! Internet এর দউলাতএ, আজকাল কাকেই বা আর চিঠি লেখা হয় বল? সাত সমুদ্রের ওপারে তোমার মেয়ে থাকলেও, skype রোজ ই দেখা হয় তোমার সাথে! চিঠির কথা বলিনি তোমাকে, কেন জানো? চিঠি পৌঁছানো অবধি ভাবতে বসবে, কি না গোপন কথা মেয়ে লিখেছে তোমায়ে! মা হবার মতো কিছু কিছু অপরাধ ত করে মেয়ে রা, তাই মেয়ের জন্য চিন্তাটাও সেই অপরাধএর ই একটা part। তাই বলিনি তোমায়ে চিঠি কথা! প্রথম কটা লাইন পড়ে, মনে মনে হাসছও for sure, ভাবছ হল কি মেয়ের? কিছুই না গো মা, আবার বছর ঘুরে পুজো এলো যে, তাই মেয়ের তোমার মন খারাপ! এই বছরও যাওয়া হল না তোমার কাছে, বাপির বাড়িতে!

 

 

 ছোটবেলার দিনগুলো কেন ফিরে ফিরে আসে মনের মধ্যে বলতে পারো? সেই সময় ত বুঝিনি দিনগুলো কতো দামি, একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসবে না! মনে আছে তোমার, আমাদের কে না জানিয়েই তুমি PAPER কাকুকে বলে দিতে আমাদের পুজাবার্ষিকী আনন্দমেলা দিতে! Paper এর সাথে, যেদিন সেটার আগমন ঘটত, বাড়িতে মোটামুটি দক্ষযজ্ঞ বেঁধে জেত, কে আগে ওটা পরবে! পূজাবার্ষিকী এলেই যেন মনে হত, এই ত পুজো ত এসেই গেল! নতুন জামা, নতুন জুতো, তোমার মনে আছে মা... দিদি আর আমি বাপিকে কেমন একটা nailpolish, lipstick আর scent লিস্ট ধরাতাম? তখন কিন্তু scent ই বলতাম, পারফিউম ত অনেক পরে শিখলাম বলা! Oly  বা Charlie scent এর সেই গন্ধ গুলো এখন অনেক সময় ধূপ কাঁঠির মধ্যে পাই জান! সন্ধ্যে বেলায়ে কেমন মনে পরে সেই সবদিন এর কথা!তোমার আর বাপীর অত্যাচারএ, ক্লাস টেন অব্ধি, আমি আর দিদি সেই ন্যাচারাল কালার এর lipstick, nailpolish লাগিয়েছি! এইসব ফাইফরমাশ এর মধে দিয়ে, কখন যেন মহালয়া চলে আসত!

 মনে আছে তোমার, মহালয়ার আগেরদিন উপাধ্যায় জেঠুর সেই বড় রেডিও ঝাড়া আর, সেটাকে চালিয়ে মাহালায়ার চ্যানেল সেট করার কথা? আমি আর দাদা, কি জালাতনটাই না করতাম জেঠুকে! তখন September, October এ কিন্তু ভাল ঠাণ্ডা পড়ত বোলো? আমার মনে আছে মা, সেই ভোর রাতে তুমি আমাদের জন্য Horlicks বানাতে আর, তোমাদের বড়দের জন্য চা! মাহালায়ার দিন সকাল এ স্নান করে, আমি আর দিদি, ঠাকুর ঘর এর সব ঠাকুর এর ফটো তে চন্দন পরাতাম! ঝারনা দি, শ্যামা, রায় জেঠিমা, দাদাভাই, পাশের বাড়ির কাকিমা সবার বাড়িতে ঝুরি করে শিউলি ফুল দিয়ে আসতাম, আমি আর দিদি! আমাদের বারিতে তখন কত ফুল হত বোলো! সেই সোনা সোনা রোদ এর সকালটা, কেমন যেন মাখামাখি হয়ে থাকতো ধূপ কাঁঠি, চন্দন, শিউলি ফুল, লুচি আর সাদা আলুর তরকারীর গন্ধে! জানো মা, ছোট বেলার এই গন্ধ গুলো বদলে যায়ে নি..... এখনও পাই বাড়িতে গেলে!

পুজোর দিনগুলো কেমন, আসতে না আসতেই ফুরিয়ে যেত! পিসির বাড়ি, মামার বাড়ি, কখনো শিলচর থেকে কাকু রা.........প্রতেক বার কেউ না কেউ আসতই আমাদের বাড়িতে পুজোর ওই কটা দিন! তোমার ত সারাটা দিনই কেটে যেত রান্না ঘরএ......সত্যি বোলো, ভাল লাগতো তোমার? আমি আর দিদি হলে ত, অনশন এ বসতাম গো মা! সপ্তমী তে তুমি অনেক রকম এর মাছ রান্না করতে, অষ্টমীতে নিরামিষ, নাবামিতে পাঁঠার ঝোল...... তোমার হাতে কি আছে মা? অমন স্বাদ কেন হয় না বোলো? বিজয়া দশমী সন্ধ্যে বেলা থেকে তুমি বানানো আরম্ভ করতে নারু-নিমকি, গজা, ঘুগনি ......মনে আছে, দাদার বন্ধুরা কেমন দল বেঁধে আসতো ঘুগনি খেতে? আমিও বানাই এখানে সব কিছু, কিন্তু কে বা আসে বোলো এখানে বিজয়া করতে! আমার ছেলেটা ত প্রণাম করতেও জানে না; শিখিয়েছিলাম মা, ভুলে গেছে! দিদির যে বছর বিয়ে হল, সেই বছর পুজতে আমরা বন্ধুরা মিলে সিদ্ধি খেয়েছিলাম জান! বিশ্বাস কাকিমা, আমাদের জন্য আলাদা করে তুলে রেখেছিল! দাদা কে বলে, আমি আর দিদি এই কুকীর্তি টা করেছিলাম! তুমি বুঝতে পারনি, সেদিন বাড়িতে অনেক লোক ছিল, দাদা আমাকে আর দিদিকে সামলে নিয়ে এসে শুইয়ে দিয়েছিল! বাপি একদম বেরোতে চাইত না ভিড় এ!তুমি ও, না! বিজয়া যেতে না যেতেই  চলে আসত লক্ষ্মী পুজো! দিদি কত সুন্দর আলপনা দিত, মনে আছে মা? আমিও দিতাম, ধানের শীষ! আমার দেওয়া লক্ষ্মীর পারা দেখে দাদা বলত, ছুটকি, তোর লক্ষ্মী ঠাকুর এর পায়ে কি পোলিও হয়েছে? কান্না-কাটি, ঝগড়া ঝাঁটি র পর, আর দেই নি কখন ও! দাদা র দেওয়া, ছোট্ট রুপোর লক্ষ্মী গণেশ কেই এখন পুজ করি জানো! এখানে আলপনা দেবার সময়, খুব মনে পরে ছোটবেলার কথাগুল! লক্ষ্মীর পারায় সিঁদুর এর ফোঁটা দিতে দিত, মনে মনে বলি, আমার লক্ষ্মীর পলিও সেরে গেছে জানিস দাদা! এখানে অনেক বন্ধুরা আসে জান, খুব সুখ্যাতি করে তোমার মেয়ের হাতের ভোগ খেয়ে! সেই সুখ্যাতই তোমার ই প্রাপ্য; মাগো, আমি ও যে তোমার ই!

 এখানে, আমরা বন্ধুরা মিলে একটা দুর্গাপুজো করি, তা ত জানই তুমি! সবাই মিলে, দুটো দিন খুব হইচই করে কাটে আমাদের! জানো মা, তিতুশ দুর্গা ঠাকুর এর সাথে Octopass এর অনেক মিল পেত! তোমার নাতির এই conclusion এ, আমি আর সুবীর একটু আঁতকেই উঠেথেছিলাম! ভেবো না মা, নাতি তোমার পুরাণ এর গল্প জানে এখন! যদিও, অসুর ক এখনও “Dark Scratchy Monster” ই বলে! পরের বছর, আসবে মা তুমি আমার কাছে? দেখো ভালো লাগবে তোমার, আমাদের ঘরোয়া ছোট্ট পুজর আয়জন! চিঠি র শুরুতে বললাম তোমাকে, যে দিনগুল কেন হারিয়ে যায়ে মা? আসলে হারিয়ে যায়ে না বোধয়ে জান! প্রকৃতি নিয়ম বদলে বদলে, কারো না কারো মধ্যে দিয়ে সেটা ফিরিয়ে দেয় গো! তিতুশ আর তিতলির মধ্যে কি তুমি আমাদের পাওনা বোলো? আমি ত, খুব দেখতে পাই আমাদের ছোটবেলা গুলো! বাপির কথা ভেবে দুঃখ পেও না মা, বাপি যেখানই থাকুক আমাদের মনের কাছেই আছে, ভাল আছে!

ভাল থেকো মা! তুমি বলেছিলে, আমাকে কিছু লিখতে......।তাই ভাবলাম পুজোর প্রনামির সাথে, তোমার দেওয়া, আমাদের ছেলেবেলাও পাঠাই একটু! ঠাকুর দেখ, ভালো থেক, ভাল খেয়ো আর অনেক খানি শিউলি ফুল এর সাথে

বাজল তোমার আলোর বেনু

মাতল রে ভুবন............।।

 তোমার

বুরুন

 

Add comment

Security code
Refresh

Sunday the 21st. Amar Pujo Toronto | Home | Joomla 3 Templates Joomlaskins