Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog Amar Pujo Toronto Blog

আমার পুজো - Praloy Dutta

Print

 আমার ছেলেবালাতে আমি হোস্টেল থাকতাম, আর ওখান থেকে পুজোতে কিছুদিনের জন্য বাড়ি আসতাম. পুজোর আগে বাড়ি আসার জন্য wait করতাম. পুজোর সময় বাড়িতে আসার জন্য হোস্টেল এর গেটে বাবার জন্য wait করতাম, আমার মহারাজ বলতেন যে তোমার বাবা রাস্তা চেনে. মহালয়ার    দিন  আগে   বাড়ি  আসতাম পুজোর  ছুটিতে . মহালয়ার দিনে  সকল  বেলা  সূর্য  ওঠার   আগে  বিরেন্দ্রাকৃষ্ণ  ভদ্রর  মহিষাসুর  মর্দিনী শুরু হয়ে  যেত .পাড়ার  পুজোর  ঢাকের  আওয়াজে  ঘুম  ভেঙ্গে  যেত . আমরা  কুমারটুলির খুব  কাছে  থাকতাম  তাই  পাড়ার প্যান্ডেলে পঞ্চমীর দিন মাঝরাতে ঠাকুর  আনা  হত .

 

পঞ্চমীর  দিন  থেকেই  সকালবেলা থেকে কোমরে নকল পিস্তল গুজে নিয়ে পাড়ার পুজোতে  সময়  কাটানো  আর  ক্যাপ  ফাটানো . মনে  আচ্ছে  দুই  ধরনের ক্যাপ  পাওয়া  যেত  গোল  ক্যাপ  আর  রোল  ক্যাপ .গোল  ক্যাপকে  আবার nut bolt মাঝে রেখে ছুড়ে ফাটাতাম. রাত্রেবেলা বাবা মার সাথে আবার নকল  পিস্তল নিয়ে ফাটাতে ফাটাতে ঠাকুর দেখতে বেরোনো আর গুনতে থাকা কত গুলো ঠাকুর দেখলাম . রাস্তায় ঠাকুর দেখার ফাঁকে ছোটখাটো পেটপুজো সেরে নাও, আর  সব শেষে কোনো হোটেলে লাইন দিয়ে  wait  করে ভালো করে খেয়ে বাড়ি ফেরা. যখন একটু বড়  হলাম তখন পঞ্চমীর দিন রাত্রে বাড়ি থেকে permission নিয়ে ঠাকুর আনতে গিয়ে গরম গরম অমলেট খেতাম , তারপর পরেরদিন সবাইকে বলতাম যে আমি ঠাকুর আনতে গেছিলাম . ষষ্ঠী থেকে রাত্রি জেগে প্ল্যান করে ঠাকুর দেখতে যেতাম . রাত্রে দুর্গাপুজো  দেখার নাম করে কিছু একটা করতাম যেটা অন্য সময়ে করা যেত নামা time বলে দিত সেই টাইমে বাড়ি ফেরত আসতে হত. নবমী থেকেই মনটা খারাপ হয়ে যেত. মনে হত যেন সব আনন্দ শেষ হয়ে গেল. দশমীর দিনের ধুনুচি নাচ ভোলা যায়না . কিন্তু আমাদের পাড়ার পুজোর ঠাকুর দশমীর পরে আরো কয়েকটা দিন প্যান্ডেলে রাখা হত. তারপর বিসর্জনের জন্য রেডী হয়ে অনেক দুখেও নিজের মত তাসা আর ঢাকের সাথে ব্যঞ্জ নিয়ে নাচতে নাচতে ঠাকুর বিসর্জন দিয়ে বাড়ি ফিরতাম . পুজোর কিছুদিন কাটিয়ে ভাইফোঁটার পরে ফিরে যাওয়ার সময় সব সময় মাকে দেখতাম চোখে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে. আবার অপেক্ষা সামনের বছরের জন্যআসছে বছর আবার হবে আর আমার পুজোর স্লোগানবছর বছর আবার হবে.

 

আমি বারবার খাওয়াতে খুব একটা interested ছিলাম না . বেঙ্গলি খাওয়া তো বাড়িতে হত তাই North Indian মোঘলাই খানাতে আমার একটু টান ছিল আর এখনো আচ্ছে.আমার বাড়ির কাছে রয়াল restaurant মাটন বিরিয়ানি চিকেন চাপের জবাব নেই. পাড়ার ফাস্ট ফুড   আমি মিস করি, ফিস ফ্রাই , মোঘলাই পরোটা, এগ-মাটন রোল , মাটন চপ ,ফিস চপ ,ডেভিল. এখন তো কত নতুন restaurant  কলকাতাতে, আমাদের সময় আমার বাড়ির কাছে রয়াল restaurant e খাওয়া মানে একটা বিরাট ব্যাপার আর তারপর বাগবাজারের পুজোর স্টল বড় বেনরাসী মিঠা পান. সেইসব দিন গুলো মনে করলে খুব ভালো লাগে , মনে হয় যদি সবাইকে এখানে এনে একসঙ্গে মজা করতে পারি ভালো লাগবে. কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থান কাল পাত্র বদলে গেছে এখন এখানকার পুজোর সাথে যুক্ত হয়েছি তাই চেষ্টা থাকবে সবাইকে নিয়ে আনন্দ করা আর আমার পুজো টরন্টোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া.

পুজোর সময় আমার মনে আচ্ছে একটা পাঞ্জাবি পাজামা কেনা হতই  যেটা অষ্টমীতে অঞ্জলি দেওয়ার টাইমে  পরতাম আর তাছাড়া অন্য সব জামা প্যান্ট  রিলেটিভেরা  দিত.এখন তো আর কেউ মনে হয় পাঞ্জাবি পায়জামা কেনেনা সবাই প্যান্ট শার্ট  কেনে .আমার ছোটবেলায় মনে আছে বাবা আমাকে বম্বে থেকে একটা খুব সুন্দর জামা এনে দিয়েছিল আরেক বার আদিদাসের জুতো কিনে দিয়েছিল ,আজও এই দুটো আমার খুব ভালো করে মনে আচ্ছে.

আমাদের গ্রামের বাড়িতে দশমীর দিন একটা শুভ অনুষ্ঠান এখনো হয় .আমার পূর্বপুরুষরা অধুনা বাংলাদেশ বরিশালের স্বরূপকাঠি গ্রামে থাকতেন .আগে আমার ঠাকুরদা এটা করতেন এখন আমার বাবা এটা করেন .আমার ছোটবেলা থেকে এটা আমি দেখে আসছি .আমরা এই অনুষ্ঠানকে বলি যাত্রা মানে নতুন বছরের শুভ সূচনা .আমাদের বাড়ির মহিলারা প্রথমে মিতালি ক্লাবের প্রতিমা বরণ করতে যান .ওনারা সিন্দুর খেলে বাড়ি ফিরে এলে তারপর actual অনুষ্ঠান শুরু হয় .পরিবারের সকল সদস্য একসাথে বড় ঘরে বসে .আমাদের পরিবারের সবাই মানে roughly ৫৫ জন বড় ছোট সবাইকে মিলিয়ে .আমাদের আরাধ্য দেবতা গনেশের মূর্তিকে সামনে রেখে আমরা যাত্রা শুরু করি .আমার বাবা প্রথমে সিন্দুর আর চন্দন লাগিয়ে গনেশ পুজো করেন .তারপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের মনে করে minute নিরবতা পালন করি .আমাদের পরিবাবের কিছু সোনার রুপোর গিনি সিন্দুর বক্সে রাখা আচ্ছে সবাই সেটা একে অন্যের হাথ থেকে নিয়ে দেখে পরিবারের সমৃদ্ধি বাড়ানোর অঙ্গীকার করে .আমাদের পরিবারের বড়রা প্রত্যেক মাসে কিছু টাকা জমা করেন ব্যাঙ্কে সেটা আমাদের পরিবারের হঠাত কোনো দরকারের জন্য .আমাদের পরিবারের ছোটরা যদি কোনো ব্যাপারে ভালো কিছু করলে তারা award পায় সেটা থেকে .আমাদের পরিবারের সবাই actively যাত্রাতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করে .কেউ গান করে ,কেউ কবিতা বলে ,কেউ কয়েক জন মিলে কোনো নাটক করে বা কেউ নিজের স্পীচ দেয়,কেউ নিজের প্রবলেমের কথা bole, কেউ অন্যের প্রবলেম সমাধান করে .আমরা সবাই মন দিয়ে শুনি আর তারপর আলোচনা করি .এরপর আমাদের পরিবারের ছেলেরা সবাই হাতে বেলপাতা নিয়ে বাড়ির বাইরে যাই ,যেটা অন্ধকারে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে লড়াই-এ যাওয়ার প্রতীক.

এই সময় বাড়ির মহিলারা গণেশের ভোগের বন্দোবস্ত করেন . গণেশের ভোগের সময় বাড়ির কোনো সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকেন না, অন্য কোনো ঘরে থাকেন .এরপর বাড়ির মহিলারা আমাদের বাড়ির ভেতরে আসতে বলেন .আমরা বাড়ির ভেতরে এসে প্রথমে গণেশকে প্রনাম করি .এরপর বাড়ির ছোটরা বড়দের প্রণাম করে আর তার জন্য আশীর্বাদের সঙ্গে বাড়িতে তৈরি নাড়ু পায়.এরপর সবাই মিলে এক সঙ্গে রাত্রে খাওয়াদাওয়া করি .দশমীর দিন আমাদের বাড়ির নিয়ম হলো যে যাত্রা না হওয়া পর্যন্ত আমরা বাড়ির বাইরে কাউকে শুভ বিজয়া বলতে পারিনা.

 

Add comment

Security code
Refresh

Thursday the 18th. Amar Pujo Toronto | Home | Joomla 3 Templates Joomlaskins